বাংলাদেশের পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৮ বছর পূর্তিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য জেলাগুলোর জনগণ ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ( ১ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক তথ্যবিরণীতে এই বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে জেনে আনন্দিত। বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটি নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের অপার আধার। যুগযুগ ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এ অঞ্চলে বসবাস করে আসছেন। তাদের ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এ অঞ্চলকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ। ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা উন্নয়নের পূর্বশর্ত’ দাবি করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাই পাবর্ত্য অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করতে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর ছিল একটা অনন্য মাইলফলক। আমি বিশ্বাস করি, শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির উন্নয়নে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে আমি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশপাশি পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপনের লক্ষ্যে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ব ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জাতিগত হানাহানি বন্ধ হয়। অনগ্রসর ও অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি ও উন্নয়নের ধারা। এটি দেশের অখ-তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে একটি মহান পদক্ষেপ হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির জন্য ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার অর্জন এই চুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। ‘বিএনপি-জামাত জোট ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ঐতিহাসিক এই চুক্তির চরম বিরোধিতা করে পার্বত্য অঞ্চলকে পুনরায় অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল কিন্তু তাদের এ হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি। আমরা পার্বত্য চুক্তির আলোকে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ গঠন করি। আমাদের সরকার এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সব খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। উপজাতি নৃগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভূমিবিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলোর নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য সমুন্নত রাখা ও পর্যটন শিল্পের প্রসারেও আমরা নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে আজ পার্বত্য জেলাগুলো কোনো পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের জনগণ সম-অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তির ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এ শান্তির ধারা আমরা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই । পাশাপাশি পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করি।

Leave a Reply