জগন্নাথপুরে মাষ্টার মন্তেশ্বর আলী ইংলিশ একাডেমির উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্টানে প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান

জগন্নাথপুর টাইমস : জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্ব হল জনগনের সেবা করা, এর পুরস্কার জনগন দেবেন। তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে সঠিক বিচার করার আহবান জানিয়ে বলেন আমার বিশ্বাস আপনারা বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা ও শেখ হাসিনার পক্ষে থাকবেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন কিছুদিন আগেই আমরা একটি মিসকিন রাষ্ট্রে ছিলাম, এখন আর মিসকিন নয়। বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশের লোকদের আর বিদেশে গিয়ে কাজ করতে হবেনা।

এই দেশেই কর্মসংস্থানের অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন এখন সময় ঐক্যের। ঠিক যেভাবে আমাদের পূর্ব পুরুষরা বঙ্গবন্ধুকে সাথে নিয়ে ঐক্য সৃষ্টি করে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ঠিক সেভাবেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিবাদ ভূলে গিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবং দেশকে সূখী সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশে নিয়ে যেতে ইনশাল্লাহ জাতীয় নির্বাচনে আমরা আবারো শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বানাবো।

তিনি শনিবার ( ১০ নভেম্বর) দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর শহরের হবিবপুর সাজেদা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হবিবপুর মাঝপাড়া হাজি বাড়ির মাষ্টার মন্তেশ্বর আলী ইংলিশ একাডেমির উদ্যোগে ও একাডেমির চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ তালুকদারের আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন কিছু লোক আছে যারা বাংলাদেশকে মনে প্রানে ভালবাসেনা, যা পৃথিবীর অন্য কোন রাষ্ট্রে নেই। নিজের দেশকে ভালবাসেনা এরকম লোক আমি অন্য কোন দেশে খুজে পাইনি। তিনি বলেন সরকারের সাথে মতবেদ থাকতে পারে। শেখ হাসিনা এবং আমাদেরকে অপচন্দ করতে পারে কিন্তু বাংলাদেশকে মনে প্রানে গ্রহন করেনা এটা কি করে সম্ভব হয়।

প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান জগন্নাথপুরের গুনী ব্যক্তি সাদা মনের মানুষ হিসেবে যিনি পুরস্কারের ভুষিত হয়েছিলেন শিক্ষাবিদ মরহুম মাস্টার মন্তেশ্বর আলীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন গর্বিত পিতার গর্বিত সন্তান সুয়েব তালুকদারসহ তার পরিবারের সদস্যরা তাদের নিজ অর্থায়নে নারী শিক্ষার প্রসারে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করে অনন্য অবদান সৃষ্টি করেছেন।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্টান তৈরী করেননি শিক্ষার্থীদের ইংরেজী শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনে ইংলিশ একাডেমি প্রতিষ্টাসহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্টা করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্রদের সহায়তা করে আসছেন। তাদের এই মহতী কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট সুয়েব তালুকদারসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে এর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

এছাড়া তিনি সাজেদা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ভবন অনুমোদনের কথা উল্লেখ করে বলেন আগামীতে বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত করন এবং এমপিও ভুক্তি করন সহ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বেগবান রাখতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে জনগনের প্রতি আহবান জানান।

জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও ঘোষগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রেজাউল করিম রিজুর সভাপতিত্বে ও হবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালেহা পারভীনের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাজেদা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: নোমান আহমদ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনহার মিয়া, পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, হলিয়ারপাড়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, দপ্তর সম্পাদক ছাদেকুর রহমান ছাদেক, পৌর কাউন্সিলার দিলোয়ার হোসেন,

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হাজি ইকবাল হোসেন ভুইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ইউপি সদস্য আছকন আলী, জগন্নাথপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো: আব্দুর রউফ, রাজনীতিবিদ শিক্ষানুরাগী দিলু মিয়া, সত্তর দশকের শক্তিমান কবি সাংবাদিক দিলদার হোসেন দিলু, জগন্নাথপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাবেক পৌর কমিশনার কামাল উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক এনাম,

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শাহ রুহেল আহমদ, সাজেদা খানম বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার শান্তা, মেহেরুন আক্তার। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজনা আক্তার শ্যামা। প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি সিজিল মিয়া।

এছাড়া ফুলেল শুভেচ্ছা জানান হবিবপুর ইলেভেন ষ্টারের সদস্যরা। এসময় সাজেদা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানকে মানপত্র তুলে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। পরে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হযরত মাওলানা সিরাজুল ইসলাম হবিবপুরী।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদ সদস্য হাজি মাহতাবুল হাসান সমুজ, জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টী মো: আব্দুন নূর, পৌরসভার প্যানেল মেয়র শফিকুল হক শফিক, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান,

প্রচার সম্পাদক হাজি আব্দুল জব্বার, সহ-প্রচার সম্পাদক ফিরোজ আলী, মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মো: ওবায়দুর রহমান কুবাদ, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব জুয়েল আহমদ, হবিবপুর গ্রামের প্রবীন মুরব্বী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হক, সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট মাহমুদুল কবির,

হবিবপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম হীরা, আবুল মনসুর সাব মিয়া, মাহমুদ আলী, মো: আব্দুল আজিজ, খালেদ হোসেন চুনু, সালা উদ্দিন মিঠু, সুরুজ মিয়া, আনোয়ার হোসেন, কবির উদ্দিন, মো: আখলিছ মিয়া, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান শিপন, আলকাব আলী, সাবেক পৌর কাউন্সিলার মো: তাজুল ইসলাম সাচ্ছা, মো: আনছার মিয়া, জিল্লুল হক ছানা, মিনার আলী, হাজি ওয়ারিছ আলী,

সামছু ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলী, মদরিছ আলী, আব্দুল জব্বার, শিক্ষক নুরুল হক, সাজেদা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আঙ্গুর আলী, জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরোজ ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শশীকান্ত গোপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক মো: আব্দুল হাই,

কলকলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফখরুল হোসেন, সাধারন সম্পাদক দ্বিপাল কান্তি দে দ্বীপাল, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মাষ্টার, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাহবুব, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম রিপন, যুবলীগ নেতা সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, আব্দুল আহাদ,

আকমল হোসেন ভুইয়া, বাবু চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সায়মন হোসেন রুমেন, মুহিবুর রহমান লিটু, যুগ্ম সম্পাদক ছায়াদ আহমদ ভুইয়া, সাজেদা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আনোয়ার হোসেন, মো: হেলাল হোসেন, মুসাদ্দিক হোসাইন, ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা ছালেহ আহমদ তালুকদার।

 

Leave a Reply